Life Story of APJ Abul Kalam - এপিজে আবুল কালাম

 "ছাত্রজীবনে বিমানের পাইলট হতে চেয়েছিলাম। 
কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হয়ে, হয়ে গেলাম রকেট বিজ্ঞানী।" 


হ্যাঁ বন্ধুরা আমি আকিব "জীবনের সন্ধানে" ইউটিউব চ্যানেলের পক্ষ থেকে আজ এই রকেট বিজ্ঞানীর কিছু কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যেগুলি আপনার জীবনকে বদলে দিতে ও অনুপ্রেরণা যোগাতে সাহায্য করবে। 


তো চলুন সবার প্রথমে আমরা জেনে নিই ইনি কে এবং এনার সংক্ষিপ্ত পরিচয়। 

ইনি হলেন "মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া" এপিজে আবুল কালাম।

আবুল পাকির জয়িনুল আবেদিন আব্দুল কালাম ছিলেন ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একাদশ রাষ্ট্রপতি। 
তিনি ১৯৩১ সালের ১৫ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি অর্থাৎ অধুনা ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের দ্বীপ শহর রামেশ্বরমের এক মধ্যবিত্ত তামিল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জয়নুল আবেদিন ছিলেন একজন নৌকা মালিক ও লোকাল মসজিদের ইমাম এবং মাতা আসি আম্মা ছিলেন গৃহবধূ। তিনি রামনাথপুরমের স্কোয়ারটস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কুল শিক্ষা সম্পন্ন করার পর পদার্থবিদ্যা বিষয়ে নিয়ে টিরুচিরাপল্লির সেন্ট জোসেফ'স কলেজ থেকে স্নাতক হন এবং বিমান প্রযুক্তিবিদ্যা অর্থাৎ অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় নিয়ে মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। 

তিনি ১৯৬০ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (DRDO) এরোনোটিক্যাল ডেভলপমেন্ট এস্টিবলিশমেন্টে একজন বিজ্ঞানী হিসেবে যোগদান করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানে তিনি একটি ছোট্ট হোভারক্রাফট এর নকশা তৈরি করে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

এরপর চল্লিশ বছর তিনি  ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) ও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ISRO) বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন। 

প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানী ও ক্ষেপণাস্ত্র যন্ত্রবিদ রূপে তার খ্যাতি অচিরেই প্রতিষ্ঠিত হয়। অগ্নি, পৃথ্বী, আকাশ, ত্রিশূল, নাগা ইত্যাদি ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণে তার অবদান ও কৃতিত্ব অপরিসীম। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতরত্ন। এছাড়াও তিনি পেয়েছেন পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ সহ আরো অনেক সম্মান ও পুরস্কার। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও বিজ্ঞান চর্চার তার ভূমিকা বহু ক্ষেত্রেই পথিকৃতের। 

কালাম তার কর্মজীবন একজন বিজ্ঞানী হিসেবে শুরু করলেও পরে তিনি ঘটনাচক্রে গণপ্রজাতন্ত্রী ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২০০২ থেকে ২০০৭ অর্থাৎ পাঁচ বছর এই পদে আসীন থাকার পর তিনি শিক্ষাবিদ লেখক ও জনসেবকের সাধারন জীবন বেছে নেন।

২০১৫ সালের ২৭ শে জুলাই সোমবার মেঘালয় শিলং শহরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানে "বসবাসযোগ্য পৃথিবী" বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা ত্রিশ নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে বেথানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৭:৪৫ নাগাদ তার মৃত্যু ঘটে। 

ভারতের প্রয়াত এই রাষ্ট্রপ্রধান ও বিজ্ঞানী তার জীবন দশাই ৮৪ বছরের দীর্ঘ ও সফল কর্ম জীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দর্শন থেকে আমাদের জন্য রেখে গেছেন অসংখ্য মহামূল্যবান বানী। তার থেকে বাছাইকৃত কিছু বানী আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো।




একটি বই একশটি বন্ধুর সমান, কিন্তু একজন ভালো বন্ধু পুরো একটি লাইব্রেরির সমান।


স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তোমাকে স্বপ্ন দেখতে হবে।
আর স্বপ্ন সেটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখ;
 স্বপ্ন হল সেটাই যেটা পূরণের প্রত্যাশা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।।


স্বপ্ন দেখতে হবে স্বপ্ন থেকে চিন্তার জন্ম হয় আর চিন্তা জন্ম দেয় কাজের।


তুমি তোমার ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারবে না কিন্তু অভ্যাস পরিবর্তন করতে নিশ্চয়ই পারবে এবং অভ্যাসই তোমার ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করে দেবে।


জীবন একটি কঠিন খেলা।ব্যক্তি হিসেবে মৌলিক অধিকার ধরে রাখার মাধ্যমে শুধুমাত্র তুমি সেখানে জয়ী হতে পারবে।


আকাশের দিকে তাকাও আমরা একা নই পুরো মহাবিশ্ব আমাদের প্রতি বন্ধুসুলভ যারা স্বপ্ন দেখে এবং কাজ করে শুধুমাত্র তাদেরকেই শ্রেষ্ঠটা দেওয়ার জন্য চক্রান্তে লিপ্ত এই বিশ্ব।


সূর্যের মতো দীপ্তিমান হতে হলে প্রথমে তোমাকে সূর্যের মতোই পুড়তে হবে।


বৃষ্টির সময় প্রত্যেক পাখিই কোথাও না কোথাও আশ্রয় খোঁজে কিন্তু ঈগল মেঘের উপর দিয়ে বৃষ্টিকে এড়িয়ে যায়।


কাউকে হারিয়ে দেয়াটা খুব সহজ কিন্তু কঠিন হলো কারো মন জয় করা।


জটিল কাজে বেশি আনন্দ পাওয়া যায় তাই সফলতার আনন্দ পাওয়ার জন্য মানুষের কাজ জটিল হওয়া উচিত।


মানুষের জীবনে প্রতিবন্ধকতা থাকা দরকার বাধা না থাকলে সফলতা উপভোগ করা যায় না।


প্রথম জয়ের পর কখনোই বিশ্রাম নেওয়া উচিত নয় তাহলে দ্বিতীয়বার যদি আবার ব্যর্থ হয় তখন সবাই বলতে প্রথমটা তুমি ভাগ্যের জোরে পেয়েছিলে।


যদি তুমি তোমার কাজকে স্যালুট কর দেখো তোমার আর কাউকে স্যালুট করতে হবে না কিন্তু তুমি যদি তোমার কাজকে অসম্মান কর অমর্যাদা কর ফাঁকি দাও তাহলে তোমায় সবাইকে স্যালুট করতে হবে।


যদি একটি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত এবং সুন্দর মনের মানুষের জাতই হতে হয় তাহলে আমি দিবে অভাবে বিশ্বাস করি এক্ষেত্রে তিনজন সামাজিক সদস্য পার্থক্যঃ এনে দিতে পারে তারা হলেন বাবা-মা এবং শিক্ষক।


ভিন্নভাবে চিন্তা করার ও উদ্ভাবনের সাহস থাকতে হবে অপরিচিত পথে চলা অসম্ভব জিনিস আবিষ্কারের সাহস থাকতে হবে এবং সমস্যাকে জয় করে সফল হতে হবে এসকল মহাবন এর দ্বারা তরুণদের চালিত হতে হবে তরুণ প্রজন্মের প্রতি এই আমার বার্তা।


সফলতার গল্প পুরো না কারণ তাতে তুমি শুধু বার্তা পাবে ব্যর্থতার গল্প পড়ো তাহলে সফল হওয়ার কিছু ধারণা পাবে।


জীবন এবং সময় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক জীবন শেখায় সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করতে সময় শেখায় জীবনের মূল্য দিতে।


পরম উৎকর্ষতা হল একটি চলমান প্রক্রিয়া এটা হঠাৎ করে আসে না ধীরে ধীরে আসে।


জাতির সবচেয়ে ভালো মেধা ক্লাসরুমের শেষ বেঁচে থেকেও পাওয়া যেতে পারে।


আমরা তখনই স্মরণীয় হয়ে থাকবো শুধুমাত্র যখন আমরা আমাদের উত্তর প্রজন্মকে উন্নত ও নিরাপদ দেশ উপহার দিতে পারব।


শিক্ষাবিদদের উচিত শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুসন্ধানে সৃষ্টিশীল উদ্যোগী ও নৈতিক শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া যাতে তারা আদর্শ মডেল হতে পারে।


হতাশ না হয়ে নিজেকে স্বপ্নপূরণের কতটা কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারছ সেদিকে নজর রাখবে কখনই সাহস আরবে না নিজের একটি দিনও যাতে বৃথা মনে না হয় সেটা চেষ্টা কর।


সমস্যা কখনো আমার উপর চেপে বসতে দেব না যত কঠিন সময় আসুক না কেন কখনোই হাল ছেড়ে দেবো না।


সমস্যাতে কখনো এড়িয়ে যেতে চাইবে না বরং সমস্যা হলে তার মুখোমুখি দাঁড়াবে মনে রাখবে সমস্যা বেহেন সাফল্যে কোন আনন্দ নেই সব সমস্যার সমাধান আছে।


জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে মজাদার চার টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করি সেগুলি হল জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ জ্ঞান আহরণ অনেক বড় সমস্যায় পড়ে ও লক্ষ্য থেকে সরে না আসে এবং কোন কাজের সাফল্য-ব্যার্থতা দুটো  সামাল দিতে পারে






Comments